Consectetur Nam nobi

বাংলাদেশের ১ নং সরকারি সার্ভিস হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস(বিসিএস)। সিভিল সার্ভিসের একজন গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন আমাদের অনেকের বুকের মাঝে লালিত আছে। সেই স্বপ্ন বাস্থবায়নের শুরুটা হচ্ছে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য নিজেকে এনলিস্টেড করতে পারা এবং পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নামকে দেখতে পারে।

এবার বিসিএস যারা দিতে যাচ্ছেন তাদেরকে অগ্রিম শুভেচ্ছা। এই পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া দরকার তা নিয়ে অনেকেই কিছুটা চিন্তিত। সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন, মানবন্টনসহ বিস্তারিত আলোচনায় যাবার আগে কিছু বিষয় স্পষ্ট নেই।

চাই অলরাউন্ড প্রস্তুতি একটা অসাধারণ অলরাউন্ড প্রস্তুতি আপনাকে পৌঁছে দিবে আপনাকে আপনার অভিষ্ট্ লক্ষে। আপনি হয়ে যাবেন ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস এর একজন গর্বিত সদস্য। আপনি হবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট, একজন এ এস পি, একজন শিক্ষক ইত্যাদি! আর তাই এখনই অস্বাভাবিক সকল চিন্তাকে (কোটা, রাজনীতি, দুর্বল সিজিপিএ ইত্যাদি) পিছনে ফেলে এখন থেকেই প্রস্তুতির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সুতরাং এখনই আপনি ভুলে যান অস্বাভাবিক কোটা এর কথা, আপনার দুর্বল সিজিপিএ এর কথা। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন এইটা ও আপনাকে ভুলে যেতে হবে! আপনাকে নতুন ভাবে শুরু করতে হবে।

জিরো থেকে হিরো! আপনি যখন একদম শুন্য (সবার ক্ষেত্রে না ও হতে পারে) থেকে শুরু করতে যাচ্ছেন তখন মনে করবেন যে আপনি জিরো থেকে হিরো হতে যাচ্ছেন! বিশেষ করে যে সকল পরীক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা প্রথমবারের মত বিসিএস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা জিরো থেকে হিরো হবার মতই! নতুনদের অনেকের মাঝে একটা ধারণা বদ্ধমূল আছে যে প্রথমবার বিসিএস দিলে নাকি ক্যাডার পাওয়া যায় না! এই ধারণাটি সম্পূর্ণ অমুলক। বরং প্রথমবার এর ক্যাডার হবার সুযোগ থাকে বেশি বলেই আমার মনে হয়েছে।

একটা বিসিএস পরীক্ষার চাকরীর সার্কুলার জারি থেকে শুরু করে শেষ ধাপে যোগদান করা পর্যন্ত প্রায় ২ বছর সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে ২৯ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হয় আগস্ট ২০০৯ এ এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ফেব্রুয়ারি ২০১১তে এসে! সর্বশেষ ৩৩ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হয় জুন ২০১২ এ এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে ক্যাডারগণ সার্ভিসে যোগদান করেন ৭ই আগস্ট ২০১৪ তে! সুতরাং একাদিক বিসিএস দেওয়ার সুযোগ, সংযম আপনার নাও হতে পারে! এক্ষেত্রে প্রথমবারকেই মহাসুযোগ হিসেবে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপাতত একটা জিনিস মনে প্রানে বিশ্বাস রাখা উচিত যে একটা অলরাউন্ড উত্তম প্রস্তুতি আপনাকে অনেক সুযোগের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিবে।

যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন প্রস্তুতির জন্য লেখাপড়ার যে বিকল্প নেই সে কি আর বলতে!! লেখাপড়া বলতে যে লেখা এবং পড়া এই দুটি জিনিসের সমন্বয় সেটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাই আর এইজন্য আমরা পরীক্ষার হলে অনেকেই সহজ সরল প্রশ্নের উত্তর দিতে ভুল করি। সাদামাটা অনেক কিছুর উত্তর দিতে গিয়ে অনেক ভেবে সময় নষ্ট করে ফেলি যা আমাদের অভীষ্ট লক্ষে পৌছাতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। সুতরাং প্রস্তুতিতে কোন ধরনের ঢিলেমি একদমই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

আপনি বাংলাদেশের এক নম্বর সরকারি সার্ভিস এর সদস্য হবেন সুতরাং প্রস্তুতির মাধ্যমে আপনাকে এক নম্বরের মত যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। প্রিলিমিনারিতে সিলেক্ট হতে পারা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। এইজন্য প্রস্তুতিটা আপনাকে একটু আলাদা গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে। একটা দিনকে সকাল, বিকাল ও রাত এই তিন ভাগে ভাগ করে আপনি একটা রুটিন করে নিতে পারেন। ঘুম থেকে অবশ্যই ভোরে উঠা উচিত বলে মনে করি। বাসা-বাড়িতে সকালের নাস্তা প্রস্তুত হতে হতে অনেক দেরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনি হাত –মুখ ধুয়ে শুকনো বিস্কিট, কেক আর পানি খেয়ে পড়তে বসে যান। সকালে যেকোনো পাঠ্যই ভাল মুখস্ত হয়। সেক্ষেত্রে আপনি সকালে সাধারণ জ্ঞান , বাংলা সাহিত্য পড়তে পারেন। ২/৩ ঘন্টা পড়ে তারপর আপনি সকালের নাশতা সেরে নিন। একটু হাঁটাহাঁটি করুন, ঘরে পায়চারী করতে পারেন। সকালের নিউজটা ও দেখে নিন এক ফাঁকে। তারপর আবার পড়তে বসুন। এইবার আপনি সাধারণ গনিত ও মানসিক দক্ষতা বিষয়টা নিয়ে বসতে পারেন।

একটু সময় নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় আপনি সাধারণ গনিত ও মানসিক দক্ষতা বিষয়টা অনুশীলন করেন। ২/৩ ঘণ্টা অনুশীলনকরে আপনি দুপুরের গোসল করা, নামাজ/প্রার্থনা, খাবার এর পর্বটা সেরে নিতে পারেন। তারপর হালকা ঘুম দিতে পারেন। দুপুরের হালকা ঘুম থেকে উঠে আপনি একটু হাঁটাহাঁটি/পায়চারি করতে পারেন। তারপর মাগরিবের আগে আর ঘন্টাখানেক আপনি সকালে যাহা পরেছেন তা রিভিশন দিতে পারেন। তারপর সন্ধ্যায় আপনি ইংরেজি ও সাধারণ বিজ্ঞান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় পড়তে পারেন। মোটামুটি এইভাবে একটা রুটিন আপনার মত করে নিতে পারেন। আশা করছি আপনি সফল হবেন।

সিলেবাস ও মানবন্টন বাছাই পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস পিএসসির ওয়েব সাইটে পাবেন। এখানে মানবন্টনটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করলাম। বিস্তারিত বর্ণনায় যাওয়ার আগে আমরা এক নজরে নতুন আঙ্গিকের এই ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন নিম্নে দেওয়া হল।

[ মোট ২০০ নম্বর, সময় ২ঘণ্টা ] ৩৫তম বিসিএস থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নতুন প্রশ্নের মান বণ্টনঃ ১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫ ২। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫ ৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি- ৩০ ৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- ২০ ৫। ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা- ১০ ৬। সাধারণ বিজ্ঞান-১৫ ৭। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি- ১৫ ৮। গাণিতিক যুক্তি- ১৫ ৯। মানসিক দক্ষতা- ১৫ ১০। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন- ১০

এক নজরে মানবন্টনের বিশ্লেষণ উপরের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানবন্টন থেকে এইটা স্পষ্ট যে বাংলা, ইংরেজি, গনিত, সাধারণ জ্ঞান এ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলা সাহিত্য ও বাংলা ব্যাকরন মিলে মোট মার্কস হল ৩৫ । ইংরেজি সাহিত্য ও ইংরেজি ব্যাকরন মিলে মোট মার্কস হল ৩৫। গাণিতিক যুক্তি(পাটিগনিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ) ও মানসিক দক্ষতা মিলিয়ে মোট মার্কস রাখা হয়েছে ৩০। এই ৩টা অংশ থেকেই মোট মার্কস থাকছে ১০০ যা সর্বমোট মার্কস এর ৫০%! সুতরাং এই তিনটা জায়গায় বিশাল গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করি। এবারে আসি বিজ্ঞান অংশে। সাধারণ বিজ্ঞান এবং কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি মিলে থাকছে ৩০ মার্কস।

এখানে মার্কস তুলতে পারা খুবই সহজ বলে মনে করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখানে প্রশ্ন রিপিট হয়। সুতরাং এখানে ১০০% মার্কস পাওয়ার প্রচেষ্টা রাখতে হবে। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যাংক গাইড থেকে এম সি কিউ পড়লেই ৯০% কমন পরবে ইনশাআল্লাহ। অন্যান্যদের মাঝে আছে ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা- এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন থাকছে ২০ মার্কস। এখানে ও কঠিন কোন প্রশ্ন হবে বলে মনে হচ্ছে না।

আপনাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে আমার বিশ্বাস। বাকি থাকল সাধারণ জ্ঞান যা বাংলাদেশ বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী এই দুইভাগে বিভক্ত। সবচেয়ে বড় আইটেমটিই কিন্তু সাধারন জ্ঞান । এখানে মোট ৫০ মার্কস আছে যাহা মোট মার্কস ২০০ এর ২৫%! বাংলাদেশ বিষয়াবলী ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ছাড়া ও এখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ , সাম্প্রতিক বিষয়াবলী নিয়ে পড়তে হবে।

সামগ্রিক প্রস্তুতি কেমন হওয়া চাই এবারে আমরা খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে দেখব বিসিএস এর সামগ্রিক প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া যায়। শুরুতেই একটা বিষয় বলে রাখতে চাই যে আপনি প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির জন্য যতটুকু সময় পাবেন রিটেন এর জন্য তার ১/৩ ও পাবেন না। অথচ, ক্যাডার পাবার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটা সুপার-ডুপার রিটেন পরীক্ষা দেওয়া এবং খুবই ভাল মার্কস অর্জন করা। সুতরাং প্রিলিমিনারি প্রস্তুতিটা এমনভাবে নেন যাতে করে রিটেন এর প্রস্তুতিটা ও এগিয়ে থাকে। আমি মনে করি প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির সময় যদি আপনি তথ্যগুলো ভালভাবে মনে রাখতে পারার মত করে পড়েন, মানে আপনি এমন ভাবে পড়বেন যেটাকে বলে “টুটস্ত” (প্রশ্ন করা মাত্রই অপশন না খুঁজে ছট করে উত্তর দিতে পারার মত করে বুঝে মুখস্ত করা) তাহলে রিটেন এর ৭০% প্রস্তুতি আপনার প্রিলিমিনারির সময় এ হয়ে যাবে। আর আপনি শুধু রিটেন এর সময় এই তথ্য গুলো কে আপানার মত করে সাজিয়ে লিখবেন। একজন বিসিএস পরীক্ষার্থী তথ্যে সমৃদ্ধ থাকলে সে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস আর এইটা পারা উচিত। সুতরাং নিজেকে তথ্যে সমৃদ্ধ করেন।

প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি শুরুটা যেভাবে করবেন প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করবেন এইটা নিয়ে অনেকেই কনফিউশন এ থাকেন। এত এত কনফিউশন এ ভোগার কোন কারনই নেই। প্রথমেই আপনি আগের বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা গুলোর প্রশ্ন সমাধান করে ফেলুন। কমপক্ষে আপনি ১০ বার আগের বছরের প্রশ্ন গুলো সমাধান করুন। তারপর আপনি পিএসসি এর বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ৫ বার সমাধান করেন। দেখবেন আপনার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস জন্মে গেছে যে আপনি পারবেন। বাজারে যে গাইড বইগুলো আছে ওইগুলোই যথেষ্ঠ বলে মনে করি ওই প্রস্তুতির জন্য। ওই প্রস্তুতি গুলো নিতে গিয়ে আপনি গাইড বইগুলোতে প্রতিটা প্রশ্নের সমাধান এর শেষে দেখবেন ফুটনোট আছে সেইগুলো ভালভাবে “টুটস্ত” করবেন। প্রিলিমিনারিতে টিকতে পারাটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ । আর এক্ষেত্রে একটা সতর্ক বার্তা, যারা মনে করেন যে অপশন দেখে প্রিলিমিনারি পাশ করবেন তারা বিরাট ভুল করবেন। কারন প্রিলিমিনারিতে খুবই কনফিউজড প্রশ্ন থাকে যেখানে মনে হয় সবগুলোই সঠিক উত্তর। আর তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই এমনভাবে প্রস্তুতি নিবেন যাতে করে প্রশ্ন দেখামাত্রই উত্তর নিয়ে কোন কনফিউশন এ ভুগতে না হয় যেটাকে আমি আমার ভাষায় বলছি “টুটস্ত”। প্রশ্ন দেখা মাত্র উত্তর ঠুটের মধ্যে চলে আসা ই “টুটস্ত”!

1 year ago

কমেন্ট করার জন্য Login করুন